মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত? বিস্তারিত জানুন
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত হওয়া উচিত? শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির বা হ্রাসের কারণ কী? শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের উপায় ইত্যাদি
শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পরিবর্তিত হলে শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে। এই ব্লগ পোস্টে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত হওয়া উচিত, তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণ, এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের উপায়।
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ধরা হয়। তবে এটি একেক মানুষের ক্ষেত্রে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। সাধারণভাবে ৯৭ থেকে ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৬.১ থেকে ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত তাপমাত্রা স্বাভাবিক ধরা হয়। শরীরের তাপমাত্রা বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হতে পারে, যেমন বয়স, পরিবেশ, দৈনন্দিন কার্যকলাপ, রোগ বা শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন।
সকাল ও রাতে শরীরের তাপমাত্রা পরিবর্তন হয়, সাধারণত সকালে কিছুটা কম থাকে এবং বিকেলের দিকে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া, খাদ্য গ্রহণ, ঘুম এবং মানসিক চাপও তাপমাত্রার উপর প্রভাব ফেলে। শিশুরা এবং বৃদ্ধদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে, তাই তাদের ক্ষেত্রে তাপমাত্রার ওঠানামা বেশি হতে পারে।
শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য সাধারণত তিনটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়—মুখ, বগল এবং রেক্টাল (পায়ুপথ)। মুখের মাধ্যমে মাপা তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে নির্ভুল হয়, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে পায়ুপথের তাপমাত্রা বেশি নির্ভরযোগ্য ধরা হয়। বগলে মাপা তাপমাত্রা কিছুটা কম হতে পারে, তাই এটি সবচেয়ে কম নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
যদি শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তার বেশি হয়, তাহলে সেটি জ্বর হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে জ্বর হতে পারে। আবার, যদি তাপমাত্রা ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) নিচে নেমে যায়, তাহলে সেটিকে হাইপোথার্মিয়া বলা হয়, যা শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে হাইড্রেটেড থাকা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ এবং পরিবেশ অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা জরুরি। এছাড়া অতিরিক্ত তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ঠান্ডা পানি পান করা, বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যদি শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম হয় এবং তা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরের তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণ
শরীরের তাপমাত্রা বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো:
👉বয়স – বয়সের সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা পরিবর্তন হওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়। নবজাতক শিশুদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে ওঠে না, তাই তাদের শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে অথবা কমে যেতে পারে। তাদের শরীর বাইরের পরিবেশের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল থাকে। শিশুরা সাধারণত বেশি সক্রিয় থাকে, ফলে তাদের তাপমাত্রা একটু বেশি হতে পারে।
যুবক এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে কারণ তাদের দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভালোভাবে কাজ করে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, হরমোনের পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে তাদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে ওঠানামা করে।
অন্যদিকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। বয়স্কদের শরীর ঠান্ডা এবং গরমের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। বয়স বাড়লে মেটাবলিজম কমে যায়, ফলে শরীর সহজে গরম হয় না। আবার, অনেক সময় বয়স্কদের রক্তসঞ্চালন কমে যায়, যা শরীরকে সহজে ঠান্ডা করে ফেলে। এছাড়া বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেমন ডায়াবেটিস বা থাইরয়েড সমস্যার কারণে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বয়স অনুযায়ী শরীরের তাপমাত্রার পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।
👉পরিবেশগত তাপমাত্রা – পরিবেশগত তাপমাত্রা মানুষের শরীরের তাপমাত্রার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। যখন আশেপাশের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তখন শরীর ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত তাপ বের করে দেয়, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তবে অত্যধিক গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে যদি পর্যাপ্ত পানি পান না করা হয় বা দীর্ঘ সময় ধরে রোদে থাকা হয়। এতে হিট স্ট্রোকের মতো সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, যখন আশেপাশের তাপমাত্রা কমে যায়, তখন শরীর নিজেকে গরম রাখার জন্য তাপ সংরক্ষণ করতে শুরু করে। রক্তনালী সংকুচিত হয়ে শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখার চেষ্টা করে, ফলে হাত-পা ঠান্ডা অনুভূত হয়। দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত ঠান্ডায় থাকার ফলে হাইপোথার্মিয়া হতে পারে, যা বিপজ্জনক হতে পারে।
তাপমাত্রার এই পরিবর্তন শরীরের মেটাবলিজম, পরিধানের পোশাক এবং অভ্যাসের উপর নির্ভর করে। যারা গরম বা ঠান্ডা পরিবেশে বেশি সময় কাটান, তাদের শরীর ধীরে ধীরে সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখে। তবে পরিবেশের চরম অবস্থা, যেমন অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা, শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
👉শারীরিক কার্যকলাপ – শারীরিক কার্যকলাপ মানুষের শরীরের তাপমাত্রা পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ। যখন কেউ ব্যায়াম করে বা শারীরিক পরিশ্রমে নিয়োজিত থাকে, তখন শরীরের পেশিগুলো বেশি শক্তি ব্যবহার করে। এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। শরীর অতিরিক্ত তাপ বের করে দেওয়ার জন্য ঘাম সৃষ্টি করে, যা ত্বকের উপর শুকিয়ে গিয়ে শীতল প্রভাব ফেলে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
অন্যদিকে, যদি কেউ দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকে, যেমন বসে কাজ করা বা ঘুমানো, তাহলে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে। কারণ এই সময়ে শরীরের শক্তি ব্যয় কম হয় এবং তাপ উৎপাদনও সীমিত থাকে। বিশেষ করে শীতের সময় দীর্ঘ সময় বসে থাকলে বা কম নড়াচড়া করলে শরীর ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।
শারীরিক কার্যকলাপের ধরণ ও সময় অনুযায়ী তাপমাত্রা পরিবর্তনের মাত্রাও ভিন্ন হতে পারে। হালকা ব্যায়ামে সামান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, কিন্তু উচ্চমাত্রার ব্যায়ামে শরীর দ্রুত গরম হয়ে যায়। যদি ঘামের মাধ্যমে পর্যাপ্ত তাপ বের না হতে পারে, তাহলে হিট এক্সহশন বা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শারীরিক কার্যকলাপের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
👉অসুস্থতা – অসুস্থতা শরীরের তাপমাত্রা পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ। যখন শরীরে কোনো সংক্রমণ বা রোগ প্রবেশ করে, তখন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং শরীর নিজেকে রক্ষা করার জন্য তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটি সাধারণত জ্বরের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যা শরীরের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। সাধারণ ঠান্ডা, ফ্লু, সংক্রমণ বা প্রদাহজনিত রোগ হলে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
অন্যদিকে, কিছু রোগ শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমিয়েও দিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, যেমন হাইপোথাইরয়েডিজম বা অপুষ্টির কারণে শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। যখন শরীর পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদন করতে পারে না বা রক্তসঞ্চালন দুর্বল হয়ে যায়, তখন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম অনুভূত হয়।
এছাড়া কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও শরীরের তাপমাত্রার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ওষুধ জ্বর সৃষ্টি করতে পারে, আবার কিছু ওষুধ শরীরকে ঠান্ডা করে ফেলতে পারে। তাই শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গেলে বা কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শরীরের সুস্থতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।
👉হরমোনের পরিবর্তন – হরমোনের পরিবর্তন শরীরের তাপমাত্রার ওঠানামার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। শরীরের বিভিন্ন হরমোন শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে, বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোন। থাইরয়েড গ্রন্থি যদি বেশি সক্রিয় হয় (হাইপারথাইরয়েডিজম), তাহলে শরীরের মেটাবলিজম বেড়ে যায়, ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে, যদি থাইরয়েড গ্রন্থি কম সক্রিয় হয় (হাইপোথাইরয়েডিজম), তাহলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যেতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে শরীরের তাপমাত্রায় ভিন্নতা দেখা যায়। মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রোজেস্টেরন এবং এস্ট্রোজেন হরমোনের ওঠানামার ফলে শরীরের তাপমাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে ওভুলেশনের পর তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়। গর্ভাবস্থাতেও হরমোনের কারণে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে।
মেনোপজের সময় অনেক নারীর শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে ‘হট ফ্ল্যাশ’ বা হঠাৎ করে শরীর গরম হয়ে যাওয়ার অনুভূতি দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া স্ট্রেসের কারণে কর্টিসল হরমোনের বৃদ্ধি শরীরের তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই শরীরের তাপমাত্রার পরিবর্তনের পিছনে হরমোনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
শরীরের তাপমাত্রা মাপার পদ্ধতি
শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, যা নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য ফলাফল দিতে পারে। সাধারণত, শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করতে ডিজিটাল থার্মোমিটার, পারদ থার্মোমিটার বা ইনফ্রারেড থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয়। তাপমাত্রা পরিমাপের সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো মুখগহ্বর, কানের ভেতর, বগল, এবং মলদ্বারের মাধ্যমে মাপা।
মুখগহ্বরের মাধ্যমে তাপমাত্রা পরিমাপ করা একটি সাধারণ পদ্ধতি। এতে থার্মোমিটার জিহ্বার নিচে রেখে কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হয়। তবে খাবার খাওয়ার পরপরই এই পদ্ধতিতে তাপমাত্রা মাপা উচিত নয়, কারণ এটি ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
বগলের মাধ্যমে তাপমাত্রা পরিমাপ করাও সহজ, তবে এটি তুলনামূলকভাবে কম নির্ভুল হতে পারে। থার্মোমিটার বগলের নিচে রেখে বাহু চেপে ধরতে হয়, যাতে এটি শরীরের সংস্পর্শে থাকে এবং সঠিক তাপমাত্রা পরিমাপ করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বেশি ব্যবহৃত হয়।
কানের তাপমাত্রা মাপার জন্য বিশেষ ইনফ্রারেড থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয়, যা কানের ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত পরিমাপ করতে পারে। এই পদ্ধতিটি খুবই নির্ভরযোগ্য, তবে কানে ময়লা থাকলে তাপমাত্রার ফলাফলে পরিবর্তন আসতে পারে।
মলদ্বারের মাধ্যমে তাপমাত্রা পরিমাপ সবচেয়ে নির্ভুল পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি শরীরের প্রকৃত অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নির্ণয় করতে সাহায্য করে। তবে এই পদ্ধতি ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।
অতিরিক্ত উন্নত প্রযুক্তির মধ্যে ইনফ্রারেড থার্মোমিটার ও নন-কন্ট্যাক্ট থার্মোমিটার রয়েছে, যা কপালের তাপমাত্রা নির্ধারণ করতে পারে। এটি দ্রুত ও নির্ভুল ফলাফল দেয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও কম থাকে।
তাপমাত্রা পরিমাপের সময় নির্ভুল ফলাফল পাওয়ার জন্য থার্মোমিটার সঠিকভাবে ব্যবহার করা জরুরি। প্রতিটি পদ্ধতিতে ব্যবহারের নিয়ম মেনে চললে এবং সঠিকভাবে থার্মোমিটার পরিষ্কার রাখা হলে নির্ভরযোগ্য ফলাফল পাওয়া যায়। শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ এটি স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
শরীরের উচ্চ তাপমাত্রার (জ্বর) কারণ
শরীরের উচ্চ তাপমাত্রা বা জ্বর সাধারণত কোনো সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে, যা শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। যখন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস বা অন্য কোনো ক্ষতিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করে, তখন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। এটি মূলত শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার একটি উপায়।
ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যেমন ফ্লু, সাধারণ সর্দি, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া বা কোভিড-১৯ হলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যেতে পারে। এসব সংক্রমণ শ্বাসতন্ত্রে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং শরীরে জ্বরের লক্ষণ দেখা যায়।
ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও জ্বরের অন্যতম কারণ। নিউমোনিয়া, টনসিলাইটিস, টিউবারকুলোসিস (টিবি), ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) ইত্যাদির ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যা জ্বরের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কিছু প্রদাহজনিত রোগ, যেমন আর্থ্রাইটিস বা অটোইমিউন ডিজিজ, শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের কারণ হতে পারে। এ ধরনের রোগে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেই অতি সক্রিয় হয়ে শরীরের টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে, ফলে জ্বর দেখা যায়।
এছাড়াও, তীব্র গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলে বা শরীর পর্যাপ্ত পানি না পেলে হিট স্ট্রোক হতে পারে, যা শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। শরীর যখন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং ঘামের মাধ্যমে তাপ বের হতে পারে না, তখন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয় এবং জ্বরের মতো লক্ষণ দেখা যায়।
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও জ্বর হতে পারে। কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বা খিঁচুনি রোধকারী ওষুধ গ্রহণের ফলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও শরীরে সাময়িকভাবে জ্বর দেখা দিতে পারে, যা শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার সক্রিয়তার কারণে হয়।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিও শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারে। অনিদ্রা, অতিরিক্ত কাজের চাপ, উদ্বেগ ইত্যাদি কারণে শরীরে কর্টিসল হরমোন বৃদ্ধি পায়, যা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তাই, শরীরের উচ্চ তাপমাত্রা বা জ্বর যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা অন্যান্য গুরুতর উপসর্গ দেখা যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শরীরের নিম্ন তাপমাত্রার (হাইপোথার্মিয়া) কারণ
শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থাকে। তবে কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তার নিচে নেমে গেলে একে হাইপোথার্মিয়া বলা হয়। এটি একটি গুরুতর শারীরিক অবস্থা, যা দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
হাইপোথার্মিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো শীতল পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকা। প্রচণ্ড ঠান্ডায় থাকলে বা ঠান্ডা পানিতে ডুবে গেলে শরীর দ্রুত তাপমাত্রা হারাতে শুরু করে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি থাকে, কারণ তাদের শরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলকভাবে কম দক্ষ।
দেহের বিপাকীয় ক্রিয়ায় সমস্যা থাকলেও শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যেতে পারে। যেমন, থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি (হাইপোথাইরয়ডিজম) থাকলে শরীরের তাপ উৎপাদন কমে যায়, ফলে হাইপোথার্মিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
দীর্ঘ সময় অনাহারে থাকলে বা শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিলে তাপ উৎপাদনের ক্ষমতা কমে যায়। শরীরের শক্তি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরি না পেলে শরীর শীতল হয়ে যেতে পারে।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা মাদকের প্রভাবেও শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। অ্যালকোহল রক্তনালী প্রসারিত করে, যার ফলে শরীর থেকে দ্রুত তাপ হারিয়ে যায় এবং হাইপোথার্মিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হাইপোথার্মিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, অবসাদরোধী ওষুধ, ব্যথানাশক ওষুধ বা স্নায়ু সংক্রান্ত রোগের ওষুধ গ্রহণ করলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যেতে পারে।
গুরুতর সংক্রমণ, বিশেষ করে সেপসিস, শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নামিয়ে আনতে পারে। এটি সাধারণত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে হয় এবং জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। যেমন, দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা বা স্নায়বিক সমস্যা থাকলে শরীরের স্বাভাবিক উত্তাপ বজায় রাখার ক্ষমতা হ্রাস পায়।
হাইপোথার্মিয়া হলে শরীর কাঁপতে শুরু করে, বুদ্ধি কাজ করা কমে যায়, হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যায় এবং চরম পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ঠান্ডা আবহাওয়ায় সঠিক পোশাক পরিধান, পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ ও শরীর গরম রাখার ব্যবস্থা করা জরুরি। দীর্ঘ সময় ঠান্ডায় থাকলে বা হাইপোথার্মিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের উপায়
শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্য কিছু কার্যকরী উপায় হলো:
➡️পর্যাপ্ত পানি পান করা – শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকর উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। পানি শরীরকে ঠান্ডা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীর যখন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, তখন ঘামের মাধ্যমে তাপ বের হয়ে যায়। কিন্তু যদি শরীরে পানির অভাব হয়, তাহলে ঘাম উৎপাদন কমে যায় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা হিট স্ট্রোক বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
গরম আবহাওয়ায় বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় বেশি ঘাম হয়, ফলে শরীর দ্রুত পানি হারায়। এই অবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং অতিরিক্ত গরম থেকে রক্ষা পেতে দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
এছাড়াও, পানি রক্তচলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের কোষগুলোর কার্যক্ষমতা বজায় রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা শরীরের জন্য উপকারী। বিশেষ করে গরমের সময় বেশি পানি পান করা উচিত, যাতে শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকতে পারে এবং সুস্থ অনুভব করে।
➡️সঠিক পোশাক পরিধান করা – শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো সঠিক পোশাক পরিধান করা। পোশাক আমাদের শরীরকে পরিবেশের প্রভাব থেকে রক্ষা করে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। গরম আবহাওয়ায় হালকা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসযোগ্য কাপড় পরিধান করা জরুরি, কারণ এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত তাপ বের হতে সহায়ক। তুলা বা লিনেনের মতো উপাদান শরীরকে শীতল রাখতে সহায়ক, কারণ এগুলো ঘাম শোষণ করে এবং শরীরের তাপ বের করার প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।
অন্যদিকে, শীতকালে উষ্ণ পোশাক পরিধান করা উচিত, যাতে শরীরের তাপ ধরে রাখতে পারে। উ wool বা ফ্লিসের মতো উপাদান তাপ বজায় রাখে এবং শরীরকে গরম রাখে। সঠিক পোশাক আমাদের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শীতের প্রভাব থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে।
এছাড়া, গরম বা ঠান্ডা অবস্থায় পোশাকের স্তর (লেয়ারিং) পরিধান করা ভালো। বিশেষত ঠান্ডায় একাধিক স্তরের পোশাক পরলে তাপ ধারণ করা সহজ হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সঠিক পোশাক পরিধান শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
➡️পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া – শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন আমরা পর্যাপ্ত ঘুম বা বিশ্রাম নেই, আমাদের শরীর পুনরুজ্জীবিত হয় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হরমোন ও প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। বিশ্রামের সময় শরীর তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় করে, যা শারীরিক কার্যকলাপের সময় খরচ হয়।
অতিরিক্ত কাজ বা পরিশ্রমের ফলে শরীর গরম হয়ে যেতে পারে, তাই বিশ্রাম নেওয়া আমাদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় শরীর দ্রুত তাপ হারাতে পারে, এবং বিশ্রাম নিলে শরীরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকে। রাতে ভালো ঘুম শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয়, কারণ এটি শরীরকে সঠিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ দেয় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক প্রক্রিয়া সক্রিয় করে।
অন্যদিকে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তাই দৈনন্দিন জীবনে পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম নেওয়া শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক।
➡️সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গঠন করা – শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গঠন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের খাবারের মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চালানোর জন্য সহায়ক। বিশেষ করে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, প্রোটিন, এবং পূর্ণ শস্য খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। এই খাদ্যগুলি শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
গরম আবহাওয়ায় অতিরিক্ত মসলাযুক্ত বা তেলাক্ত খাবার এড়ানো উচিত, কারণ এগুলি শরীরের তাপ বৃদ্ধি করতে পারে। বরং সুষম এবং হালকা খাবার খাওয়া শরীরকে শীতল রাখতে সাহায্য করে। যথেষ্ট পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শরীরের পানির অভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হতে পারে।
এছাড়াও, ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সুস্থ খাদ্যাভ্যাস শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়া উন্নত রাখে এবং তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখে।
➡️নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা – শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শরীরের ভিতরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যক্রম মনিটর করে এবং যেকোনো অস্বাভাবিকতা চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। যখন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কোনো সমস্যা দেখা দেয়, যেমন ফিভার বা হাইপোথার্মিয়া, তা সাধারণত শারীরিক অস্বাস্থ্য বা অসুখের লক্ষণ হতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে এসব সমস্যা আগেই ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা নিতে সুবিধা হয়।
বিশেষত, হার্ট, ফুসফুস, এবং ইমিউন সিস্টেমের সঠিক কার্যক্রম শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে এই সিস্টেমগুলোর অবস্থা জানা যায় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কোনো বাধা থাকলে তা ঠিক করা যায়।
এছাড়াও, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য পরীক্ষা করার মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অংশের সম্পর্কে জানা যায়, যা তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য সাহায্য করে। তাই, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে শরীর সুস্থ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
FAQ
-
মানুষের স্বাভাবিক শরীরের তাপমাত্রা কত? – সাধারণত ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
-
কেন জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়? – সংক্রমণ বা ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া হিসেবে।
-
কোন অবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি হয়? – বিকালের দিকে এবং শারীরিক পরিশ্রমের সময়।
-
কোন পদ্ধতিতে শরীরের তাপমাত্রা সবচেয়ে নির্ভুলভাবে মাপা যায়? – রেক্টাল থার্মোমিটারে সবচেয়ে নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যায়।
-
হাইপোথার্মিয়া কি? – যখন শরীরের তাপমাত্রা ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে নেমে যায়।
-
শিশুদের স্বাভাবিক শরীরের তাপমাত্রা কত? – সাধারণত ৯৭-১০০.৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।
-
শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কী করা উচিত? – পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক পোশাক পরা, এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।
-
কেন বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয়? – বয়স বৃদ্ধির ফলে শরীরের মেটাবলিজম কমে যায়।
-
তাপমাত্রা বাড়লে কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত? – যদি ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হয় বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়।
-
কেন রাতে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়? – কারণ রাতে মেটাবলিজম কমে যায় এবং শরীর বিশ্রাম অবস্থায় থাকে।