OrdinaryITPostAd

শবে কদরের দোয়া ও ইবাদত সর্বোত্তম আমল ও ফজিলত (২০২৫ আপডেট)

শবে কদরের দোয়া ও ইবাদত সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। এই পবিত্র রাতের গুরুত্ব, ফজিলত, বিশেষ দোয়া, আমল ও করণীয় সম্পর্কে ২০২৫ সালের সর্বশেষ আপডেটসহ পড়ুন।
শবে কদরের দোয়া

শবে কদর ইসলাম ধর্মের একটি বিশেষ রজনী, যা লাইলাতুল কদর নামেও পরিচিত। এটি পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে একটি। এই রাতে আল্লাহ তাআলা অগণিত রহমত বর্ষণ করেন এবং বান্দার দোয়া কবুল করেন। তাই, এই রাতের বিশেষ দোয়া ও ইবাদত সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শবে কদরের ফজিলত

শবে কদর ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় রাত, যা পবিত্র কুরআনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে একটিতে ঘটে, বিশেষত ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯তম রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, তাই মুসলমানরা শেষ দশকের প্রতিটি বিজোড় রাতে ইবাদতে মশগুল থাকেন।

শবে কদরের গুরুত্ব অপরিসীম। এই রাতের ফজিলত এতটাই বেশি যে, একে "হাজার মাসের চেয়েও উত্তম" বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের সমান সওয়াব অর্জনের সুযোগ এনে দেয়। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের "সূরা কদর"-এ উল্লেখ করেছেন যে, এই রাতে ফেরেশতারা পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং আল্লাহর নির্দেশে রহমত ও শান্তি বিতরণ করেন। এটি এমন এক রাত যখন মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় এবং আল্লাহর অপার রহমতের দরজা উন্মুক্ত থাকে।

এই রাতে ইবাদত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি শবে কদরে ইমান ও ইখলাসের সাথে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।" তাই এই রাতে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, দোয়া এবং ইস্তেগফার করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। বিশেষ করে, রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে এই রাতে "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নি" দোয়াটি পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যার অর্থ— "হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাসো, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দাও।"

শবে কদর শুধু ইবাদতের রাত নয়, এটি আত্মশুদ্ধির ও আত্মউন্নতির এক বিরল সুযোগ। যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে, তাদের জন্য এটি এক মহাসুযোগ। এই রাতের ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়, গুনাহ মাফ করা হয় এবং জান্নাতের পথ সুগম হয়। সুতরাং, আমাদের উচিত এই রাতকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা, বেশি করে দোয়া করা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা।

শবে কদরের নির্দিষ্ট তারিখ

শবে কদর ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও রহমতের রাত, যা পবিত্র কুরআনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি এমন এক রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। তবে শবে কদরের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো উল্লেখ নেই। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে একটিতে সংঘটিত হয়। বিশেষ করে, ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিশেষভাবে ২৭তম রাতের কথা বেশি উল্লেখ করেছেন, তাই অনেক মুসলমান এ রাতকেই শবে কদর হিসেবে পালন করেন।

শবে কদরের নির্দিষ্ট তারিখ না জানানোর অন্যতম কারণ হলো, মুসলমানরা যেন শুধু এক রাতেই ইবাদত না করে বরং পুরো শেষ দশক জুড়ে আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগী হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ দশকের রাতগুলোতে বিশেষভাবে ইবাদত করতেন এবং সাহাবাদেরও বেশি বেশি ইবাদতের জন্য উৎসাহিত করতেন। তিনি বলেন, "তোমরা শবে কদরকে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে অনুসন্ধান করো।" (বুখারি ও মুসলিম)

এই রাতের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, এই রাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহর বিশেষ রহমত পৃথিবীতে নেমে আসে। ফেরেশতারা আল্লাহর আদেশ নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যারা ইবাদতে মশগুল থাকে, তাদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হয়। এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি মর্যাদাপূর্ণ, যা একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিরল সুযোগ।

যদিও শবে কদরের নির্দিষ্ট তারিখ জানা যায় না, তবুও প্রতিটি মুসলমানের উচিত রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি রাত ইবাদতে কাটানো। বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও ইস্তেগফার করা উচিত। বিশেষত ২৭তম রাতে ইবাদতের গুরুত্ব অনেক বেশি হলেও, নিশ্চিত না হওয়ার কারণে বাকি বিজোড় রাতগুলোকেও অবহেলা করা উচিত নয়। যারা আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং ইবাদতে মগ্ন থাকেন, তারা শবে কদরের ফজিলত লাভ করতে পারেন। সুতরাং, আমাদের উচিত নির্দিষ্ট রাতের অপেক্ষা না করে শেষ দশকের প্রতিটি রাতকেই শবে কদর মনে করে ইবাদত করা, যাতে আমরা আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকত লাভ করতে পারি।

শবে কদরের দোয়া

শবে কদর হল রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রাত। এই রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য অসংখ্য দোয়া কবুল করেন এবং গুনাহ মাফ করে দেন। তাই এই পবিত্র রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রিয় স্ত্রী আয়েশা (রা.)-কে একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছিলেন, যা শবে কদরে পড়তে বলা হয়েছে। এই দোয়াটি হল— “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নি।” অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাসো, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দাও।”

এই রাতটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন মানুষের তাকদির নির্ধারণ করা হয়। তাই, এই রাতে নিজের গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা, জান্নাতের আশায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করা উচিত। শবে কদরের দোয়া শুধু মুখে পড়লেই হবে না, বরং অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা ও অনুশোচনার অনুভূতি থাকতে হবে। আল্লাহর দরবারে একনিষ্ঠভাবে কেঁদে কেঁদে দোয়া করলে তিনি অবশ্যই তা কবুল করেন।

শবে কদরের দোয়ার মাধ্যমে শুধু নিজের জন্য নয়, বরং পরিবারের সদস্যদের জন্য, মুসলিম উম্মাহর জন্য, জীবনের সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এবং পরকালীন মুক্তির জন্যও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত। বিশেষত, যারা অসুস্থ, বিপদগ্রস্ত বা দুঃখ-কষ্টে আছে, তাদের জন্য দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ এই রাতে তাঁর বান্দাদের ডাকে সাড়া দেন এবং যে কেউ আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলে তিনি তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন।

এই রাতে বেশি বেশি ইস্তেগফার করা এবং দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) শিখিয়েছেন যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই শবে কদরে তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়াই সবচেয়ে উত্তম আমল। যারা সত্যিকারের তওবা করে এবং আল্লাহর রহমতের আশায় দোয়া করে, তারা অবশ্যই সফলতা লাভ করবে। সুতরাং, শবে কদর যেন আমাদের জীবনে এক নতুন মোড় আনতে পারে, সেই দোয়া আমাদের সবার করা উচিত। 

শবে কদরের অন্যান্য আমল

এই রাতে শুধুমাত্র দোয়া পড়লেই হবে না, বরং অন্যান্য ইবাদতের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো:

➡️নফল নামাজ পড়া: শবে কদর একটি মহিমান্বিত রাত, যেখানে ইবাদত করা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম। এই রাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হল নফল নামাজ পড়া। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শবে কদরে অধিক পরিমাণে নামাজ পড়তে উৎসাহিত করেছেন। এই রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করলে আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভ করা যায় এবং গুনাহ মাফের সুযোগ তৈরি হয়।

নফল নামাজ পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো রাকাত সংখ্যা নেই। তবে যত বেশি সম্ভব দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করা যায়। প্রতিটি নামাজে সূরা ফাতিহার পর ছোট সূরাগুলো পড়া যেতে পারে। বিশেষ করে, সিজদায় গিয়ে আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা চাওয়া এবং জান্নাতের প্রার্থনা করা উচিত। যারা আন্তরিকতার সঙ্গে শবে কদরে নফল নামাজ আদায় করেন, তারা আল্লাহর অশেষ রহমত লাভ করতে পারেন।

এই রাতে নামাজের পাশাপাশি কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া করাও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। আল্লাহর কাছে নিজের সব গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করা উচিত। তাই শবে কদরের বরকতপূর্ণ রাতের সঠিক মূল্যায়ন করতে হলে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা উচিত।

➡️কুরআন তিলাওয়াত: শবে কদর হলো এমন একটি রাত, যখন কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, তাই এই রাতে কুরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সওয়াবের কাজ। কুরআন হলো আল্লাহর বাণী, যা মানুষের জন্য হেদায়েতের পথনির্দেশনা দেয়। এই পবিত্র রাতে কুরআন তিলাওয়াত করলে আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকত লাভ করা যায়।

শবে কদরে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে একজন মুসলিম তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে। তিলাওয়াতের সময় কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা বোঝার চেষ্টা করলে তা ইবাদতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে, সূরা আল-কদর, সূরা ইয়াসিন, সূরা আর-রহমান, সূরা আল-ইখলাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূরাগুলো তিলাওয়াত করা এই রাতে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

এই রাতে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত এবং পাশাপাশি আল্লাহর কাছে নিজের ও পরিবারের কল্যাণের জন্য দোয়া করা উচিত। যারা কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলতে চান, তাদের জন্য শবে কদর হতে পারে নতুনভাবে শুরু করার এক অনন্য সুযোগ। তাই এই রাতের ফজিলত ও বরকত অর্জনের জন্য আমাদের উচিত কুরআনের প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং বেশি বেশি তিলাওয়াত করা।

➡️জিকির ও তাসবিহ: শবে কদর হলো রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রাত। এই রাতে বেশি বেশি জিকির ও তাসবিহ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। আল্লাহর প্রশংসা, তাসবিহ ও দোয়ার মাধ্যমে মানুষ তাঁর সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। এই রাতের বরকত অর্জনের জন্য "সুবহানাল্লাহ", "আলহামদুলিল্লাহ", "আল্লাহু আকবার" এবং "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বেশি বেশি পাঠ করা উচিত।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিখিয়েছেন, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হলে আন্তরিকভাবে জিকির করতে হবে। বিশেষ করে, "আস্তাগফিরুল্লাহ" বারবার বলা গুনাহ মাফের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়। শবে কদরের রাতে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু" পাঠ করলে অসংখ্য সওয়াব লাভ করা যায়।

তাসবিহ পাঠের মাধ্যমে হৃদয় প্রশান্ত হয় এবং অন্তর আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়। বিশেষত, তাসবিহে ফাতেমি (৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার) পড়া এই রাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা একাগ্রচিত্তে আল্লাহর জিকির করেন, তারা তাঁর বিশেষ রহমত লাভ করেন।

শবে কদরের ফজিলত পেতে হলে আমাদের উচিত দুনিয়াবি ব্যস্ততা ভুলে বেশি বেশি জিকির ও তাসবিহ করা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তাঁর দয়া ও ক্ষমা অর্জনের চেষ্টা করা।

➡️তাওবা ও ইস্তেগফার: শবে কদর হলো গুনাহ মাফের শ্রেষ্ঠ রাত, যেখানে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য অসীম দয়ার দ্বার খুলে দেন। এই রাতে তাওবা ও ইস্তেগফার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। তাওবা হলো নিজের কৃত গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে তা না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা। আর ইস্তেগফার হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। যারা শবে কদরে আন্তরিকতার সঙ্গে তাওবা করে, আল্লাহ তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং জান্নাতের পথ সুগম করে দেন।

এই রাতে "আস্তাগফিরুল্লাহ রব্বি মিন কুল্লি জাম্বিন ওয়া আতুবু ইলাইহি" বা "রব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়া ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রহিম" পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। যে কেউ আন্তরিক চিত্তে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তার জন্য রহমতের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যায়। শবে কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, তাই এই রাতের প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতে কাটানো উচিত।

তাওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে অন্তর পবিত্র হয়, মন প্রশান্ত হয় এবং জীবন পরিবর্তনের নতুন সুযোগ তৈরি হয়। আমাদের উচিত দুনিয়াবি চিন্তা ভুলে গিয়ে আল্লাহর কাছে নিজের ভুলত্রুটির জন্য কেঁদে কেঁদে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে সৎপথে চলার প্রতিজ্ঞা করা।

➡️সাদকাহ ও দান: শবে কদর হলো রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রাত, যেখানে ইবাদতের প্রতিদান হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই রাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সাদকাহ ও দান করা। দান-সাদকার মাধ্যমে মানুষের গুনাহ মাফ হয়, দুনিয়া ও আখিরাতে বরকত আসে এবং আল্লাহর দয়া লাভ করা যায়। শবে কদরে সাদকাহ দিলে তা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সওয়াবের কারণ হয়।

এই রাতে যারা অভাবী, দরিদ্র ও অসহায়দের সাহায্য করে, আল্লাহ তাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দানশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বিশেষত রমজান মাসে দান-সাদকার প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতেন। শবে কদরে দান করা মানে হলো এই রাতের ফজিলতকে আরো বেশি গ্রহণ করা।

সাদকাহ ও দান শুধু টাকার মাধ্যমে নয়, বরং খাদ্য, পোশাক, পানীয় বা যে কোনো উপকারী জিনিস প্রদান করাও এর অন্তর্ভুক্ত। দান করার সময় আন্তরিকতা থাকা জরুরি, কারণ আল্লাহ শুধু সেই দান গ্রহণ করেন, যা খালেস নিয়তে করা হয়। তাই শবে কদরের এই বরকতময় রাতে আমাদের উচিত বেশি বেশি দান-সাদকা করা, গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানো এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যথাসাধ্য সহায়তা করা।

শবে কদরের দোয়ার গুরুত্ব

শবে কদরের দোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি এমন একটি রাত যখন আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি অসীম রহমত বর্ষণ করেন এবং তাদের দোয়া কবুল করেন। পবিত্র কুরআনে শবে কদরকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি করলে অপরিসীম সওয়াব লাভ করা যায়। বিশেষত, দোয়া হলো সেই আমল যার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে, নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইতে পারে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিখিয়েছেন যে, শবে কদরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো— “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাআফু আন্নি”, অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।” এই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফের আবেদন করে, যা তার জন্য মুক্তির দ্বার খুলে দেয়।

শবে কদরের দোয়ার গুরুত্ব এই কারণে আরও বেশি যে, এই রাতে বান্দার তাকদির বা ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। তাই এই রাতের প্রতিটি মুহূর্ত দোয়া ও ইবাদতে কাটানো উচিত। নিজের, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, মুসলিম উম্মাহ এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য কল্যাণ কামনা করা উচিত। শুধু ব্যক্তিগত চাহিদার জন্য নয়, বরং সকলের জন্য শান্তি, কল্যাণ ও হেদায়েত কামনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

দোয়া মানুষের অন্তরের প্রশান্তি বৃদ্ধি করে, গুনাহ মোচন করে এবং ভবিষ্যতের জন্য বরকত বয়ে আনে। বিশেষত, যারা আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তাদের জন্য জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হয়। তাই শবে কদরের রাতে আমাদের উচিত কুরআনের বিভিন্ন দোয়া, নবিজির শেখানো দোয়া এবং নিজের মনের কথা আল্লাহর কাছে খোলা হৃদয়ে তুলে ধরা। এই রাতে চোখের পানি ফেলে দোয়া করলে, তা আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে গৃহীত হয়।

শবে কদরের রাত একবার হাতছাড়া হয়ে গেলে তা পুনরায় পাওয়া যায় না। তাই আমাদের উচিত এই মহিমান্বিত রাতে বেশি বেশি দোয়া করা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাকুতি-মিনতি করা এবং নিজেদের গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে অনুরোধ করা। যে ব্যক্তি এই রাতে খালেস নিয়তে দোয়া করে, সে নিঃসন্দেহে আল্লাহর অফুরন্ত দয়া ও অনুগ্রহ লাভ করবে।

FAQ

  1. শবে কদরের বিশেষ দোয়া কী?

    • শবে কদরের বিশেষ দোয়া হলো "اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني"
  2. শবে কদরের রাতে কী কী ইবাদত করা উত্তম?

    • নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, তাওবা এবং সাদকাহ করা উত্তম।
  3. শবে কদর কখন হয়?

    • রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে একটি রাত শবে কদর।
  4. শবে কদরের দোয়া কয়বার পড়তে হয়?

    • যতবার সম্ভব পড়া উত্তম, তবে আন্তরিকতা ও একাগ্রতা থাকতে হবে।
  5. শবে কদরের নামাজ কত রাকাত?

    • নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই, তবে ২, ৪, ৬, ৮ বা ১০ রাকাত পড়া যায়।
  6. শবে কদরে আল্লাহ কী কী দান করেন?

    • আল্লাহ এই রাতে বান্দার গুনাহ মাফ করেন, রহমত ও বরকত দান করেন।
  7. নারীরা শবে কদরে কীভাবে ইবাদত করবেন?

    • তারা ঘরে থেকেই নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির করতে পারেন।
  8. শবে কদরের ফজিলত কী?

    • এটি হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
  9. শবে কদরে মৃত্যুবরণ করলে কী হয়?

    • যদি কেউ ঈমানের সাথে এই রাতে ইবাদতরত অবস্থায় মারা যান, তবে তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে।
  10. শবে কদরের রোজা রাখা কি জরুরি?

  • না, তবে এই রাতে ইবাদত করলে রমজানের ফজিলত পাওয়া যায়।

শেষ কথা

শবে কদর ইসলামের এক বিশেষ বরকতময় রাত, যেখানে আল্লাহ তাআলা অগণিত রহমত ও মাগফিরাত বর্ষণ করেন। এই রাতের ইবাদত ও দোয়া হাজার মাসের ইবাদতের সমতুল্য। তাই, আমাদের উচিত এই রাতে ইবাদতে মনোনিবেশ করা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন